নুরুজ্জামান শেখ, শরিয়তপুর
শরীয়তপুর সদর সাব রেজিস্টার অফিসের নকল নবিশদের জাল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ২০১৮ সালে শরীয়তপুর সদর সাব রেজিস্টার অফিসে নকল নবিশপদে যোগদান করেন নূর হোসাইন,নজরুল ইসলাম ওরফে নোবেল হাওলাদার, ইয়াসমিন আক্তার সিলভিয়া হোসেন।এই চার জন নকল নবিশ পদে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন জাল জালিয়াতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, উপরোক্ত চারজন একত্রে দুর্নীতির মাধ্যমে ২০২৩ সালে মূল দলিলের নকলের সার্টিফাইট ক জমা না করে ভুয়া কেস নাম্বার দিয়ে পাবলিকের নিকট হস্তান্তর করে মোটা অংকের ঘুষ-বানিজ্য করে।শরীয়তপুর সদর সাব রেজিস্টার অফিসের স্থায়ী নকল নবীরগণ ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ১৬ তারিখে হাতেনাতে প্রমাণসহ জব্দ করে। যাহার দলিল নং ১৬৪৫/২০২৪,১৭০০/২০২৪,১৫৪৩/২০২৪।দুর্নীতিবাজ নকল নবিশ নূর হোসেন ২০২২ সালের অক্টোবর মাসের ১২ তারিখে ৭০৭৮ নং দলিলের নকল নিজ হাতে লিখেন যাহার মূল দলিলের গ্রহীতা মোসাম্মৎ চায়না বেগম। মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের বিনিময়ে চায়না বেগমের স্থলে গ্রহীতা মোহাম্মদ মমিন আলী খান লিখে নকল কপি হস্তান্তর করেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখে অফিসের স্থায়ী নকল নবিজগণজালিয়াতি নকলের ফটোকপি জব্দ করে। সদর সাব রেজিস্টার অফিসে বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির সাথে জড়িত নজরুল ইসলাম ওরফে নোবেল হাওলাদার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এবং অন্যান্য নকল নবিশদের সাথে অশালীন আচরণ করে। গভীর তত্ত্বে আরো জানা গেছে নজরুল ইসলাম ওরফে নোবেল হাওলাদার নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন ও বিক্রিসহ বিভিন্নভাবে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।দুর্নীতিগ্রস্ত নজরুলের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ মামলা হয়েছে।যার মামলা নং -৩৬০০(৩)/১/২০২১।অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ উপরোক্ত চারজনের কর্মকাণ্ডের কারণে আতঙ্কে রয়েছে। জালিয়াতির সাথে জড়িত ওরা যেকোনো সময় অফিসের বিভিন্ন ধরনের নথি পরিবর্তন করে অফিসের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এছাড়াও ২০১৮ সালে ৫১৯৪ নং মূল দলিলের নাম পরিবর্তন করে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য করে। উপরোক্ত অস্থায়ী নকল নবিশ জালিয়াতিদের বিরুদ্ধে শরীয়তপুর কোর্টে মামলা দেয়া হয়েছে। ৫১ ৯৪ নং মূল দলিলটি যখন বালামের কপি করার সিরিয়াল আসে তখন নকল নবিশ নূর হোসাইন দলটি বালামে কপি করিতে চায়।অত্র অফিসের মোহরার মমতাজ বেগম নূর হোসাইন কে বলে তুমি জুনিয়র,এই দলিলটির মামলা চলে তাই এই দলিলটি তুমি বালামে কপি করিও না। কিন্তু নূর হোসাইন জোরপূর্ব দলিলটি বালামে কপি করে।
সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কেরানি আক্তার হোসেনের নিকট উক্ত দলিটি জমা দেয়। দলিলটি জমা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই কেরানি আখতার হোসেনের কাছ থেকে দলেটি অসম্পূর্ণ কাজের কথা বলে নুর হোসাইন দলটি ফেরত আনেন।দলিলটি ফেরত আনার পর থেকে ওই ই অত্র অফিসে দলটি আর খুঁজে পাওয়া যায় নাই। দলিলটি না পাওয়ায় নূর হোসাইন কে প্রচন্ড আকারে করে চাপ প্রয়োগ করিলে পরবর্তীতে নূর হোসাইন গোপনীয়ভাবে দলটি ফেরত দেন।অত্র অফিসের স্থায়ী নকল নবীগণ জেলা রেজিস্টার ও জেলা : সাব রেজিস্টারের নিকট উপরোক্ত জালিয়াতিদের বিরুদ্ধে লিখিত আকারে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায় নাই। জালিয়াতের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে জালিয়াতিদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে।
শরীয়তপুর সদর সদর সাব রেজিস্টার মোহাম্মদ ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে দৈনিক জনতাকে জানান, সম্প্রতি কয়েকদিন পূর্বে আমি সদর কার্যালয়ে জয়েন করেছি। আমার সহকারীর মাধ্যমে একটি প্রতিবেদন পেয়েছি।জেলা রেজিস্টার এর প্রতিবেদনের আলোকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
